সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০১৩

গ্রাফিক্স ডিজাইন


ডাটা এন্ট্রি বলেন, আর ভি-এ বলেন- পোর্ট ফলিওতে দু একটা নিন্মমানের লোগো ডিজাইন কিংবা ফটো এডিট থাকবেই। দোষের কিছু নয়, বলছি কি লাভ এতে? একটা বেপারই বোঝা যায়, ফটোশপ- কিংবা ইলাসট্রেটর সম্পর্কে এই লোকের কিছু ধারনা আছে। হয়ত আগ্রহও আছে। কিন্তু প্ল্যানিং নেই। কাজও নেই।
আবার অনেকে নতুন। এখনো কোন কাজ করছেন না। শুনেছেন, ডিজাইনারদের অনেক টাকা, তাই ডিজাইনিং শেখার জন্য, ফেসবুকে কাউকে অনলাইনে পেলেই টেক্সট করা শুরু করেন। কিভাবে করবো? কেন করব?কোথায় শিখব? আপনে শিখাবেন? বলা বাহুল্য, এই চ্যাটে গ্রাফিক ডিজাইন কি সেটা শেখানও সম্ভব হয়না। অজ্ঞতা যথেষ্ট বিরক্তি আসে- কারন এই লোকেরা মনে করে- ফেসবুকে অনলাইনে থাকা মানেই- এই লোক ফ্রি আছেন এবং যে কোন ধরনের উদ্ভট প্রশ্ন করা যায়। তাই- লিখার অভ্যাস না থাকলেও দু চার কলম লিখলাম। আশা করছি- ভুল গুলো আপনাদের চোখ এড়িয়ে যাবে। গ্রাফিক ডিজাইন একটি সৃষ্টিশীল কাজ। গতানুগতিক অন্য কাজগুলো থেকে আলাদা। এই কাজটির চাহিদা  আছে থাকবে। আপনি এখন যেই স্ক্রিনে এই লিখাটা পড়ছেন, সেটার শুরুও গ্রাফিক্স। যেই মোবাইলে আপনি জানে জিগারের সাথে কথা বলছেন- সেখানেও আছে গ্রাফিক্স। টেলিভিশন, ফিল্ম  থেকে শুরু করে, উচু উচু বিল বোর্ড - সব কিছুই গ্রাফিক্সের আওতাভুক্ত। সহজ কথায়- কম্পিউটারের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন যে কোন কাজকেই আমরা গ্রাফিক্স বলতে পারি। সুতরাং কাজটা মজার। কথা হল- কাজটা আপনার জন্য কি না।

১। প্রাথমিক যোগ্যতাঃ


আপনার কোন ফ্যান্টাসি আছে? কাউকে নিয়ে জেগে জেগে স্বপ্ন দেখেন? তার শরীরের কোন অংশটা সুন্দর, কোন অংশটায় খুত আছে- ধরতে পারেন? কোন রঙের লিপসটীক তাকে বেশি মানায়? কোন জামাটায় তাকে পরীর মতো লাগে? তাকে কখনো পুতুলের মতো সাজিয়ে রাখার চিন্তা করেছেন? উত্তর গুলো যদি পজিটিভ হয়- হবে- আপনাকে দিয়েই হবে। জাস্ট খালি ক্যানভাসটাকে আপনার গার্ল ফ্রেন্ড মনে করেন। মনে মনে মনের মতো করে সাজান। এক কানে না দিলে কিই বা হয়- ভেবে এক কানের কানফুল না দিয়ে চলে যাবেন না। সাজিয়েছেন? সুন্দর লাগছে? কনগ্রাটস -আপনি বরং ডিজাইনার।
আপনার কোন ফ্যান্টাসি নাই? নো প্রবলেম। আরেক জনের গার্ল ফ্রেন্ডরে সাজান!

২। ক্ষেত্র নির্বাচন করুনঃ


নিজেকে গ্রাফিক ডিজাইনার বলার আগে- আপনাকে কিছু সিদ্ধান্তে আসতে হবে। আপনার কোন দিকে আগ্রহ আছে? যেমনঃ এডভারটাইজিং, ওয়েবসাইট, মাল্টিমিডিয়া, প্রিন্ট ডিজাইন অথবা অ্যানিমেশন। এগুলোকে গ্রাফিক্স এর বিভিন্ন ক্ষেত্র বলা হয়। শুরু করার আগে, আপনার সমস্ত আগ্রহ একটা ক্ষেত্রে নিয়ে আসুন। যেটা আপনাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষিত করে। যদিও ওয়েব এবং প্রিন্ট গ্রাফিক্স কিছুটা কাছাকাছি, তবে কিছু বেসিক পার্থক্য আপনাকে জানতে হবে। তাই, শুরু থেকেই ব্যাপারটায় ফোকাস দিলে- উন্নতি তাড়াতাড়ি আশা করা যায়।

৩। প্রয়োজনীয় টুলস জোগাড় করুনঃ


গ্রাফিক ইন্ডাস্ট্রিতে বিপ্লব ঘটানো দুটি সফটওয়্যার হল- এডোবি  ফটোশপ আর ইলাসট্রেটর। এই দুইটা দিয়েই শুরু করুন। সহজ ব্যবহার, অনন্য সাধারণ ফিচার। যে কোন শৈল্পিক কাজে- এদের চাইতে কার্যকরী কোন সফটওয়্যার চোখে পরে না। বাজারে সিডি কিনতে পাবেন। আর না হলে টরেন্ট থেকে ডাউনলোড করে নিন।

৪। বই কিনুনঃ


যে যাই বলুন। বইয়ের আপিল আমার কাছে অন্য রকম। বাজার থেকে কিছু বই কিনে নিন। উঠতে, বসতে, গাড়িতে কিংবা কারেন্ট গেলে বারান্দায় বসে- বই গুলোতে চোখ বুলান। ১৫০-২০০ টাকা খরচ করে যা শিখতে পারবেন।  ইন্টারনেট এ পাঁচ ঘণ্টা সার্ফিং করেও তার অর্ধেক পাবেন না। তবে- আমাদের দেশি বইগুল লিখাই হয়- আন্দরকিল্লা কিংবা নীলক্ষেতের গ্রাফিক ডিজাইনারদের উদ্দেশ্য করে। তাই মানের যথেষ্ট ঘাটতি আছে। মান সম্মত ই-বই ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারেন। মানের কমতি থাকবে না।

৫। ট্রেনিং নিনঃ


মানুষ সব চেয়ে বেশি শিখে দেখে। তাই ২/১ মাস কারো কাজ দেখুন। হতে পারে সেটা ট্রেনিঙের মতই নিয়মিত। এতে আপনার কাজের স্পৃহা বারবে। গতিও বারবে সন্দেহ নেই।

৬। গ্রাফিক কমিউনিটির সাথে ইনভল্ভ হনঃ


নিজে নিজে প্র্যাকটিস করাটা গ্রেট।  তবে মাঝে মাঝে নিজের কাজ গুলো অন্যদের দেখান। যদিও প্রথম দিকে এটা খুব পেইনফুল টাস্ক হবে কোন সন্দেহ নেই, অনেক সময় ভালো কিছু সাজেশন পেতে পারেন। তাই নিজের ইগোটাকে দমিয়ে রাখুন। অন্যের মতামতটাকে সিরিয়াসলি নিন।  আবার অন্যের কাজ গুলোও দেখা জরুরী। অন্যরা কি কাজ করছে তা দেখলে আপনি প্রেজেনট ফ্যাশন/ ট্রেনজ বুঝতে পারবেন। উপরন্তু- ফ্রিলেন্স কাজের ক্ষেত্রে এটা আরও অনেক বেশি দরকারি। সমপেশাজীবীদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ুন, যোগাযোগ রাখুন, তাদের কাছ থেকে শেখার মন মানসিকতা তৈরী করুন। সফলতা খুব একটা দূরে নয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্যে আমার উৎসাহ আরোও বেড়ে গেল লেখার প্রতি।